মণিরামপুরে প্রবেশপত্র জিম্মি করে টাকা আদায়
কোমলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা বাণিজ্যের নগ্ন রূপ
এসএসসি পরীক্ষার প্রাক্কালে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কোমলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চরম অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও শিক্ষা বাণিজ্যের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও, রহস্যজনকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেওয়া হয়নি। অথচ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওই দিনই প্রবেশপত্র বিতরণ করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই প্রবেশপত্রের বিনিময়ে ‘কোচিং ফি’র নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে কোনো লিখিত নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই হঠাৎ করে এই অর্থ দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগ শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না-যা তাদের শিক্ষাজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে,
“আমরা প্রবেশপত্র নিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু স্পষ্ট বলা হয়েছে-টাকা না দিলে প্রবেশপত্র নেই। এটা কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাকি টাকার বিনিময়ে জিম্মি করার জায়গা?”এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক কুমার কৃষ্ণ ঘোষ অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“তিন মাস কোচিং করানো হয়েছে, সেই বকেয়া টাকা আদায় করা হচ্ছে।”তবে প্রশ্ন উঠেছে-কোচিং ফি আদায়ের নামে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখার অধিকার কে দিয়েছে? এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।
অভিভাবকদের ভাষ্য, এটি সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা অভিযোগ করেন, কোচিং ফি ঐচ্ছিক হলেও সেটিকে জোরপূর্বক বাধ্যতামূলক করে প্রবেশপত্রের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন,“বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে প্রবেশপত্রের সময় কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় বৈধ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সাব্বির হাসান
আপনার মতামত লিখুন