এক বছরেও পূরণ হয়নি জবির ‘মার্চ টু যমুনা’র ৩ দফা দাবি
গত বছরের ১৪ মে তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি পালন করেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আবাসন বৃত্তি চালু, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি—এই তিন দাবিকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা আন্দোলনের এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নানা ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে বারবার রাজপথে নামতে হলেও বাস্তবায়ন হয়নি মৌলিক দাবিগুলো।
জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। ন্যায্য দাবি আদায়ে বারবার রাজপথ বেছে নিতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদের আমলে উন্নয়নের নামে শুধু লুটপাট হয়েছে। হাসিনার পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম নতুন বাংলাদেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে। কিন্তু তা হয়নি। সেই কারণেই গত বছর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনুস সরকার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। এর মধ্যে আমরা নতুন প্রশাসন পেয়েছি। আশা করি দ্রুত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় আবারও রাজপথে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।”
জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, “বিগত প্রশাসন আমাদের আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে প্রতারণা করেছে। বারবার আশ্বাস দিয়েও দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নতুন প্রশাসন মাত্র দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রয়োজনে আবারও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমরা আশাবাদী, নতুন প্রশাসন দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে।”
একই বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, “জবি ঐক্যের ব্যানারে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণে গত বছর তিন দফা দাবি নিয়ে যমুনামুখী কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও এক বছরেও একটি দাবিও বাস্তবায়িত হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “মূলত প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবিগুলো আদায় সম্ভব হয়নি। আমরা ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত কাজ করছি এবং যোগাযোগ রাখছি, যেন দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।”
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে হতাশা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ খান বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে হওয়া আন্দোলনের এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সমাধান মেলেনি। আবাসন সংকট, বাজেট সমস্যা ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আজও অনিশ্চয়তায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এটি হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা বারবার আশ্বাস পেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি কখনোই কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “লং মার্চ টু যমুনা আন্দোলনের এক বছরেও কোনো দাবি আদায় না হওয়া সামগ্রিক ব্যর্থতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দাবিগুলো আদায় করা সহজ ছিল, তবে কেন হয়নি সে বিষয়ে কারও ওপর দোষ দিতে চাই না।আন্দোলনের রেশ থাকতে থাকতেই সেটা আদায় করা যতটা সহজ যত ই বিলম্ব হয় তা তখন কঠিন হয়ে পড়ে।”
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। “আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আল্লাহ ভরসা, আমরা প্রত্যাশা করছি দ্রুতই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হবে।”
আপনার মতামত লিখুন