যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ব্যস্ততম চাড়াভিটা বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও দোকানের মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভ্যান স্ট্যান্ড এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া ওই যুবকের নাম সুমন (২৭)। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চাড়াভিটা বাজারে একটি দোকান ঘরের দখল ও অবস্থান নিয়ে শ্রীরামপুরের সুমনের সাথে পার্শ্ববর্তী পাকের আলী গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে চঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতা চলছিল। সুমনের অভিযোগ, চঞ্চল এলাকায় নিজের একক আধিপত্য কায়েম করতে এবং বাজারসহ সংলগ্ন ভ্যান স্ট্যান্ড এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া ছিলেন। ইতিপূর্বে এই বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মৌখিক বাদানুবাদ হলেও বিষয়টি আজ সহিংসতায় রূপ নেয়।
মঙ্গলবার সকালে সুমন চাড়াভিটা বাজারের ভ্যান স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় হঠাৎ সেখানে চঞ্চল উপস্থিত হন এবং পূর্বের বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে পুনরায় তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে ক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চল তার কাছে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র (চাকু) বের করে অতর্কিতে সুমনের ওপর হামলা চালান। চঞ্চল সুমনের নিতম্বের দুই পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। সুমনের চিৎকারে বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত চঞ্চল চাকু উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুমনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার ক্ষত যথেষ্ট গভীর। তবে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে আসায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এদিকে, জনবহুল চাড়াভিটা বাজারে দিনের শুরুতে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চঞ্চল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেূর্ত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত চঞ্চলের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।