বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা ও সংকটের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে দেশের বাজারে অচিরেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন স্পষ্ট আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বহুপক্ষীয় পরামর্শ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেলের সংকট এখন আর শুধু বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম যখন বাড়ে, তখন সেটি সরাসরি দেশের উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইনের ওপর আঘাত হানে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য বিপণন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার পকেটে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য কেবল আমাদের নয়, পুরো বিশ্বকেই এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থাও একই; সেখানেও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা খুবই স্পষ্ট।”

মন্ত্রী জানান, সরকার এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপের কথা চিন্তা করে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিশাল এই ভর্তুকি অব্যাহত রাখা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অসহনীয় চাপের সৃষ্টি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়া আমাদের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

দেশের অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সরকার নীতিগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে বলে ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের মূল লক্ষ্য, কিন্তু আমাদের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময় দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আমাদের কিছু অপ্রিয় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ করা হবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের মতে, মন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের একটি আগাম ইঙ্গিত। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমে, তবে সরকার হয়তো বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কমানোর পথে হাঁটবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারে।


প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন