অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যে ‘অস্থায়ী তালা’ ঝোলানো হয়েছিল, বিএনপি সরকার এখন তাতে স্থায়ী আইনি সিলমোহর বসাতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’টি এখন কঠোর শাস্তির বিধানসহ পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হচ্ছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে চার থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে দলটির নেতাকর্মীদের।
গত ১৩ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিশেষ কমিটি ২০২৫ সালের ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’টি সংশোধিত আকারে পাসের প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং, কার্যালয় ব্যবহার এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাকে আরও শক্তিশালী করতেই শাস্তির ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। ১২ এপ্রিলের ডেডলাইনের আগেই এটি সংসদীয় বিল হিসেবে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
এক সময় নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করলেও ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার এই অধ্যাদেশটিকেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার অস্ত্র হিসেবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগের অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান না থাকায় এটি কার্যকর করা কঠিন ছিল। এখন সাজার বিধান যুক্ত হলে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার বা সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে না। দলটির ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে এবং কোনো ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। কেউ এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাঠে নামলে তাকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে কঠিন দণ্ডের আওতায় আনা হবে।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান একে রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করলেও আইনগতভাবে এটি মোকাবিলা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মাঠের রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইনটি পাস হলে দীর্ঘ মেয়াদে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান আইনি জটিলতার বেড়াজালে আটকা পড়বে।