রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরুদ্ধার করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক বৃহৎ কূটনৈতিক জোট গঠন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে দখলমুক্ত ও সচল করতে চলতি সপ্তাহে লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৩৫টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক সম্মেলন ও নৌ-নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো অবরুদ্ধ জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করা। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মতো দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত এই জোট কেবল রাজনৈতিক আলোচনাই নয়, বরং যুদ্ধের পর এই রুটটিকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে সামরিক পরিকল্পনাকারীদেরও আলোচনার টেবিলে বসিয়েছে। স্টারমারের মতে, এই সংকট সত্তর দশকের বিশ্ব কাঁপানো তেল সংকটের ভয়াবহতাকে ফিরিয়ে এনেছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থান
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল যখন হোয়াইট হাউস থেকে একের পর এক মিত্রদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় লন্ডন ও প্যারিসের ওপর চরম রুষ্ট তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— "যারা আমাদের যুদ্ধে পাশে নেই, তারা তেলের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই সাহস নিয়ে হরমুজ দখল করুক।" তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে মিত্রদের নিরাপত্তার দায়ভার আমেরিকা আর বহন করবে না।
মিত্রতায় ফাটল ও জাতীয় স্বার্থ
ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্টারমার ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন চাপকে উপেক্ষা করে কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "মিত্রতা থাকলেও ব্রিটিশ জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।" তিনি বর্তমানে কেবল আত্মরক্ষামূলক ও ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মিশনে সীমিত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকট
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পার হয় এই সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলার জেরে ইরান এই পথে পাল্টা অবরোধ ও হামলার হুমকি দেওয়ায় ভারত ও চীনের মতো বৃহৎ বাজারগুলোতে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থবিরতা কাটাতে স্টারমারের এই সম্মেলনকেই এখন শেষ ভরসা হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।