ভোরে জায়নামাজে থাকা অবস্থায় আপন স্ত্রীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রায় ছয় বছর পর চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ঘাতক স্বামী গোলাম সারোয়ারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে শাহানারা বেগম নামে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী গোলাম সারোয়ার অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ঘটনার দিন ভোরে শাহানারা বেগম যখন নামাজ পড়ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘাতক সারোয়ার গামছা দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে ধরেন। শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এই মামলার সবচেয়ে আবেগঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নিহতের নিজ সন্তানের সাক্ষ্য। নিজের মায়ের হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছেলে আদালতে দাঁড়িয়ে বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেন। বিচারক তাঁর রায়ে এই সাক্ষ্যকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন, যা অপরাধ প্রমাণে মূল ভূমিকা পালন করে।
রায়ের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সেলিম শাহী বলেন:"সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত এই রায় দিয়েছেন। ভোরে ইবাদত করা অবস্থায় একজন নারীকে এভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে একটি কড়া বার্তা পৌঁছেছে।"দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পাওয়া এই রায়ে ভুক্তভোগীর পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।