বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
৪৭ দেশের অকুণ্ঠ সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার

৪৭ দেশের অকুণ্ঠ সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডির বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক অভূতপূর্ব সমর্থন ও সংহতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে বিশ্বের ৪৭টি দেশ বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তাদের শুভেচ্ছা ও গভীর আস্থা প্রকাশ করেছে। দেশগুলো একযোগে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পাশে রয়েছে।

অধিবেশনের মূল আলোচনায় উঠে আসে শ্রম খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জুনে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধি আইএলও সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে তৎকালীন সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি শ্রম খাত সংস্কার পরিকল্পনা জমা দেয়। গত পাঁচ বছরে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে গভর্নিং বডির আটটি অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

চলমান এই ধারাবাহিকতায় সোমবার বর্তমান সরকার তাদের নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

আইএলওর ৫৬ সদস্যের গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি একক দেশ, দুটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোটের (আরব গ্রুপ ও উপসাগরীয় গ্রুপ) ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নতুন সরকারের উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

একইসঙ্গে, ১৪টি দেশসহ মালিকপক্ষ ও আঞ্চলিক জোটগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য জোর দাবি জানায়। সমর্থনকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে— চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন, নাইজার, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তান।

গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার।

আলোচনার শুরুতে উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান: প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত আন্তরিক।

দেশের মানুষ বিপুল ভোটের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মূল ভিত্তি হলো মানবাধিকার, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

'বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫'-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে করা সংশোধনীর প্রতি সরকারের মনোভাব ইতিবাচক।

সরকার দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যা আইএলওর 'ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা'র সাথে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার এবং পরিদর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। তবে তারা এই রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সক্রিয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পরিশেষে, উপদেষ্টা মাহদী আমিন দৃঢ়তার সাথে জানান যে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং শ্রমিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি আইএলওসহ আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। সব মিলিয়ে, এই অধিবেশনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন