বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গৌরীপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট, আতঙ্কে পরিবার

গৌরীপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট, আতঙ্কে পরিবার

নবী হোসেন লাদেন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি নিরীহ পরিবারের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় থানা-পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার ১ নম্বর মইলাকান্দা ইউনিয়নের শৌলঘাই গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ একেএম আব্দুল হেকিম মাস্টারের বাড়ি এবং গোবিন্দপুর বাজারে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালায়।হামলাকারীরা বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার মালামাল লুট করে নেয়। এতে পরিবারটি প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।


পরিবারটির অভিযোগ, স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র দলটি এ হামলা চালায়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল বলেও জানান তারা।ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলেও তারা কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। এ ছাড়া ঘটনার পরও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্য মো. শামসুল আলম।এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হেকিম মাস্টারের বাড়িতে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ হেকিম মাস্টার, তার স্ত্রী ও কয়েকজন বয়স্ক নারী রয়েছেন। ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট, বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ দেখা গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দায়িত্বে ছিলেন ওসি (তদন্ত)। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন