বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বাতিলের তালিকায় গণভোট ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজনসহ ২০ অধ্যাদেশ

বাতিলের তালিকায় গণভোট ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজনসহ ২০ অধ্যাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি অন্তত ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’—এই দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’ সহ সুরক্ষা সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হলেও অন্তত ২০টি স্পর্শকাতর অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বাতিলের সুপারিশে থাকা উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশসমূহ:

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’। এছাড়াও রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’।

অন্যান্য অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় সংশোধনী অধ্যাদেশ।

ঝুলন্ত অবস্থায় ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ’:

বিদেশে চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে ১৯ নভেম্বর জারি করা ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়েও দেখা দিয়েছে বিপত্তি। অঙ্গদানের পরিধি বাড়িয়ে ভাতিজা ও ভাগিনাকে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দলের আপত্তির কারণে এটি বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

বিশেষ কমিটির তিনটি ক্যাটাগরিতে অধ্যাদেশগুলো যাচাই করছে। কিছু অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে পাস হবে, কিছু সংশোধনীসহ আসবে এবং যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না সেগুলো এই অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যাবে।

কমিটির সদস্যরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে জারি করা এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করা হবে। তবে ল্যাপস হয়ে যাওয়া অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী সময়ে সরকার চাইলে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে। আপাতত সংসদের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে।


প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন