সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে মসজিদের খাদেম নিয়োগ! প্রতিবাদ করায় সভাপতিকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ

জয়পুরহাটে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে মসজিদের খাদেম নিয়োগ! প্রতিবাদ করায় সভাপতিকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ

মো: জান্নাতুন নাঈম

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একটি জামে মসজিদে ধর্ষণচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিকে সুকৌশলে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিবাদ করায় মসজিদ কমিটির বয়োজ্যেষ্ঠ সভাপতিকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও, পুলিশের এক ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১টায় ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুজাইল চক জামে মসজিদ কমিটির আহত সভাপতি আলহাজ্ব আফাজ উদ্দিনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে শিক্ষক মাহবুব হোসেন।

​লিখিত বক্তব্যে মাহবুব হোসেন বলেন, "মসজিদ কমিটির সভাপতিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে অত্যন্ত গোপনে দীর্ঘদিনের খাদেম ভূট্টো মিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বদলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি যোগসাজশ করে সুকৌশলে মিজানুরের আপন ছোট ভাই জুয়েল মন্ডলকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নাম প্রেরণ করেন।"

​লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, নবনিযুক্ত খাদেম জুয়েল মন্ডল একজন চরম বিতর্কিত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলা (মামলা নং ৯৯/২৫) চলমান রয়েছে। ওই মামলায় তিনি ইতোপূর্বে ৪০ দিন হাজতবাসও করেছেন। 

পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে এমন একজন দাগী আসামিকে নিয়োগ দেওয়ায় সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

​এই নিয়োগের প্রতিবাদ করায় উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তথাকথিত মসজিদ নির্মাণ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও তার নিয়োগকৃত খাদেম ভাই জুয়েল মন্ডল মিলে মসজিদ কমিটির প্রকৃত সভাপতি আলহাজ্ব আফাজ উদ্দিনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেন।

​এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ২৩পি/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, "মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান, জুয়েল মন্ডল এবং পুলিশে কর্মরত তাদের আরেক ভাই জিয়াউর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরিবারকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। মামলা তুলে না নিলে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।এমতাবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি।"

​সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিক সমাজের মাধ্যমে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিজেদের নিরাপত্তা কামনা করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন