জয়পুরহাটে পুনর্বাসনের নামে আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায়, চাঁদাবাজি এবং সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
খোদ দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম নিজ দলের নেতা-কর্মীদের এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করে প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা করেছেন।
গত রোববার দুপুরে জয়পুরহাট সদর থানাসংলগ্ন নিজ বাসভবনের পাশে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও তাঁর সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজ দলের বিরুদ্ধে তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ফয়সল আলিম দলের ভেতরে চলা ব্যাপক চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "আওয়ামী লীগের বাড়ি পোড়ানো ঠেকানোর নামে টাকা নেওয়া হয়েছে, আর এখন পুনর্বাসনের নামে তাদের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। সত্য লুকিয়ে কোনো লাভ নেই। আমাদের দলের বদনাম হয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "মামলা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়েও টাকা নেওয়া চলছে।"
দলের কিছু নেতা-কর্মীর লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ফয়সল আলিম বলেন, "ত্রাণের সম্পদ কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সম্পত্তি বিক্রি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জয়পুরহাটের চকবরকত এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনের ১৬টি গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।
নিজ দলের এসব অসাধু কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ফয়সল আলিম বলেন, "জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে চাঁদাবাজির কোনো স্থান হবে না। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আসছে। কোনো চাঁদাবাজকে আগামী দিনে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির জনগণ ভোট দেবে না। এসব অপকর্ম বন্ধে আমি নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"
যোগাযোগ করা হলে এই বিএনপি নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমি সত্য কথাই বলেছি। প্রধানমন্ত্রী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা স্পষ্ট— দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না। কোনো চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
খোদ কেন্দ্রীয় নেতার মুখ থেকে নিজ দলের এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও অর্থ আদায়ের স্বীকারোক্তি জয়পুরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।