যশোরের খাজুরা অঞ্চলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে নামায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই খাজুরা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল আরোহীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্প কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন বিক্রির ‘রেশনিং’ পদ্ধতি চালু করেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সূর্য ওঠার আগেই খাজুরা ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই লাইন প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে আশেপাশের গলিতে গিয়ে ঠেকে। শত শত চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পাম্পের মেশিনে ২০০ টাকা সেট করে দেওয়ায় কাউকেই এর বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ২০০ টাকায় দুই লিটারেরও কম তেল পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন চালকরা।
খাজুরা ফিলিং স্টেশনের একজন ব্যবস্থাপক জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন:"আমাদের চাহিদার তুলনায় চারভাগের একভাগ তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না। সবাইকে পূর্ণ ট্যাংক তেল দিলে মাত্র এক ঘণ্টায় পাম্প খালি হয়ে যাবে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে সবাইকে অল্প করে তেল দিচ্ছি যাতে কেউ রাস্তায় আটকে না পড়ে।"
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকরা। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক বলেন, "অফিসে যাওয়ার জন্য এসে দেখি কয়েক কিলোমিটার লাইন। শেষ পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ালাম ঠিকই, কিন্তু মাত্র ২০০ টাকার তেল পেলাম। এই তেলের অর্ধেক তো লাইনে দাঁড়িয়ে স্টার্ট দিতেই শেষ হয়ে যাবে।"অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু লোক বালতি বা কন্টেইনারে করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। পাম্প চত্বরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঝেমধ্যে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের।
শুধু খাজুরা নয়, যশোরের বাঘারপাড়া ও চৌগাছা রুটের অন্যান্য পাম্পগুলোতেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পাম্প খোলা আছে, সেখানে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পণ্যবাহী ট্রাক এবং গণপরিবহন চলাচলও স্থবির হয়ে পড়বে।
সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেটের কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভোক্তাদের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাম্পগুলোর মজুদ তদারকি করা হোক এবং দ্রুত ডিপো থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।