দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকার এবং ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস দিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, পাম্প মালিকরা বলছেন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য।
সোমবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করছে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকেও তেল কেনা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, "ঈদের ছুটির কারণে গত দুদিন সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা সাময়িক। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছি।" তিনি জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত না করার অনুরোধ জানান।
একই সময়ে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব দাবি করেছেন, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর একটি অপচেষ্টা সরকার সফলভাবে রুখে দিয়েছে। ফলে ঈদযাত্রায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।
সরকারি এই আশ্বাসের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি অভিযোগ করেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না।
সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, "তেল না থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আর যেখানে আছে সেখানে খোলা রাখা হয়েছে।" তবে পাম্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন।
* আমদানি: গত বছরের চেয়ে ২৫% বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে।
* সরকার: সরবরাহ স্বাভাবিক, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
* ব্যবসায়ী: সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম।
* ভর্তুকি: বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট এই ধোঁয়াশা কাটাতে দ্রুতই মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।