ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে দিনমজুর রব ফরাজীর বসতঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ কিংবা ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই প্রশাসন তাদের বসতঘর ভেঙে দিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে রব ফরাজী বলেন, গত বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে আদালত নিযুক্ত কমিশনের উপস্থিতিতে প্রশাসন, পুলিশ এবং মামলার বাদীপক্ষের লোকজন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা অন্তত একদিন সময় চেয়ে আকুতি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
রব ফরাজীর ভাষ্য, “আমরা বলেছিলাম, একদিন সময় দিলে ঘরের মালামাল ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে জমিতে আমাদের বসতঘর ছিল, সেটি আমরা ক্রয় করেছি। এর স্বপক্ষে দলিলও দেখিয়েছি। তারপরও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আগে থেকে নোটিশ পেলে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারতাম। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের ঘটনায় তাদের পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়েছে এবং এখন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদী ও রব ফরাজীর প্রতিবেশী কালাম মাওলভী বলেন, “আমি প্রায় ২০ বছর ধরে আদালতে মামলা পরিচালনা করেছি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন। সেই রায়ের ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তারা এসে জায়গা খালি করে আমাকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত বা ভূমিকা নেই।”
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্ছেদের আগে নোটিশ গোপন রাখা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালাম মাওলভী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আদালতের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিকেই উচ্ছেদ অভিযানের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।