শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেসি-নেইমারের গ্রাফিতি অঙ্কন

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেসি-নেইমারের গ্রাফিতি অঙ্কন

ডেস্ক রিপোর্ট

ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু খেলা নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এক বিশাল উৎসব ও উন্মাদনা। বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের প্রিয় দলকে ঘিরে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে, তখন সেই জোয়ারে বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই। ফুটবলের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা বিশ্বজুড়ে আলোচিত।

প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। এরই মধ্য দিয়ে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত সড়ক, সর্বত্রই এখন উড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। এছাড়াও জার্সি পরিধান, মিছিল-শোডাউন কিংবা গ্রাফিতি অঙ্কনের মাধ্যমে সমর্থকেরা নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

এই বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা ২০০ ফুট এবং ব্রাজিলের সমর্থকেরা ৭৫০ স্কয়ার ফুট পতাকা নিয়ে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে শোডাউন করেছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা টানিয়েছেন সমর্থকেরা।

তবে সেই উন্মাদনা বাড়িয়ে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের দেয়ালে মেসির গ্রাফিতি এবং ২য় গেইটের দেয়ালে ব্রাজিলের পতাকার আবরণে নেইমারের গ্রাফিতি ফুটে উঠার মুহুর্তে।

লিওনেল মেসির গ্রাফিতির ডিজাইনার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মশিউর রহমান এবং নেইমার জুনিয়রের গ্রাফিতির ডিজাইনার চারুকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. নাসিরুল ইসলাম।

গ্রাফিতি অঙ্কন নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক সাকিবুল হাসান সজীব বলেন, এই গ্রাফিতিটি আঁকার উদ্দেশ্য ছিল লিওনেল মেসির প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য একটি স্মরণীয় জায়গা তৈরি করা। মেসিকে ভালো লাগে তাঁর অসাধারণ ফুটবল, বিনয়, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতার জন্য। তিনি আমাদের কাছে একজন অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা, আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা খেলবে, ভালো ফুটবল উপহার দেবে এবং আবারও শিরোপার জন্য লড়াই করবে। আমরা সবসময় দলের পাশে আছি।

আরেক আর্জেন্টিনা সমর্থক ফারহানা আমবেরীন লিওনা জানান, আঁকার উদ্দেশ্য অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে। এই গ্রাফিতির দিকে যতোবার তাকাই ততোবারই বিগত ৩৬ বছরের অপেক্ষা এবং পরিশ্রমকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যা আবেগকে উসকে দেয় বলে আমি মনে করি। গ্রাফিতিটা আসলে আবেগ হিসেবে ভক্তদের কাছে এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে সবার ভেতরে কাজ করবে। কারণ আমি মনে করি, গ্রাফিতির দিকে যখনই কেউ তাকাবে, তখনই অদম্য এক শক্তির সঞ্চার হবে। প্রতিভার সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা যায়।
তিনি আরো বলেন, মেসিকে চিনি ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে। বুঝতে শেখার পরে আমার প্রথম বিশ্বকাপ। মুখে মুখে শুনতাম, ম্যারাডোনার শূন্যস্থান হয়তো কিছুটা হলেও মেসি পূরণ করবে। তারপর যতোটুকু খেলা বুঝি, তাতে মেসি অসম্ভব ভালো খেলোয়াড়—নিঃসন্দেহে যে কেউ স্বীকার করবে। আর সবথেকে বড় বিষয়, মেসি প্লেয়ার হিসেবে কেমন, সেটা সারাবিশ্ববাসী এখন জানে।

অন্যদিকে ব্রাজিলের সমর্থক এবং গ্রাফিতি ডিজাইনার মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন,ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই গ্রাফিতিটি আঁকা। ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য ভাইদের সহযোগিতায় প্রায় ১৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া এই দেয়ালচিত্রটি সম্পন্ন করেছি।

তিনি আরো বলেন, নেইমার জুনিয়র আমার প্রিয় ফুটবলার, তাকে এই গ্রাফিতিতে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল হেক্সা মিশন পূরণ করবে।

ব্রাজিলের আরেক সমর্থক সামিউল ইসলাম অহি বলেন, চলমান বিশ্বকাপে যত কিছু আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে তার মধ্যে সবথেকে আলোচিত বিষয় হচ্ছে নেইমার বিশ্বকাপে দলে যুক্ত হওয়া। নেইমারকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভালো লাগে, সেইদিক থেকে বিবেচনায় ব্রাজিলকে সমর্থন করা। সেইসাথে এই বিশ্বকাপেও নেইমার খেলছে এটা আলাদা ভালো লাগার বিষয়। এই ভালো লাগার অনুভূতি দ্বিগুন বেড়েছে আমাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় একটা ব্রাজিল সমর্থকদের বিভিন্ন কার্যক্রমে। মিছিল, মিটিং, আনন্দ শোভাযাত্রা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখা এবং সবথেকে আকর্ষণীয় বিষয় গ্রাফিতি অঙ্কন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেইটে ব্রাজিলের পতাকার আবরণে নেইমারের যে গ্রাফিতি তা আসলেই নান্দনিক। যা ব্রাজিল সমর্থকদের আলাদা ভাবে নজর কেড়েছে। আমরা আশা করছি এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল ভালো কিছু করবে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন