শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

আবির কার

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

বুধবার (২৪ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। 

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য। সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চল, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই সরকার সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে যখন শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। অতীতের রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয় সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেও নজরুল তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন বিশ্বকবি, যার সাহিত্য ও দর্শন আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. তাহমিনা আখতার, বাংলা একাডেমি-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম এবং জবি ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান-কে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন