ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক এখন 'ভুতুড়ে' বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। মিটার রিডিংয়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিল আসায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দাপ্তরিক সাফল্য ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত রিডিং বাদ দিয়ে অফিসে বসে ‘অনুমাননির্ভর’ ও চড়া বিল তৈরি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রাহকদের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় বিল আসছে দ্বিগুণ, তিনগুণ, এমনকি চারগুণ পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হয়েছে তীব্র আর্থিক চাপ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, মাসের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিল হঠাৎ বেড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়, মেলেনা কোনো সমাধান। মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম, ওয়াফিজ উদ্দিনসহ একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার রিডিং সংগ্রহের তোয়াক্কা না করে অফিসের ইচ্ছামতো বিল তৈরি করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, অফিসে কর্মরত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিজের পদোন্নতির লক্ষ্যে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের চিত্র দেখাতে মরিয়া। আর সেই লক্ষ্য অর্জন করতে মাঠপর্যায়ের রিডারদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে গরমিল রেখে বিলিং সেকশনে নতুন করে বিল তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিলিং সেকশনের সুপারভাইজার লুৎফা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘বিলিংয়ের কাজ আমাদের সেকশনেই হয়। তবে বিস্তারিত জানতে ডিজিএম স্যারের সঙ্গে কথা বলুন। মাঠপর্যায়ের রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি অস্পষ্টভাবে জানান, মাঠের তথ্যের পাশাপাশি ডিজিএম স্যারের নির্দেশনায়ও অনেক সময় বিল করা হয়।’
এ বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (অস্থায়ীভাবে ডিজিএমের দায়িত্বে থাকা) কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুক। বিল ও রিডিংয়ের গরমিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার ভাষ্য, ‘বিলিংয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিলিং সেকশনের, এ বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। বিস্তারিত ডিজিএম স্যার ভালো বলতে পারবেন।’
ভুতুড়ে বিলের এমন কারসাজি এবং কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ঈশ্বরগঞ্জের গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে এই দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম গোলাম মোস্তফাকে মোবাইল নাম্বার একাধিক বার কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।