শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
অবৈধ সংযোগের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, অভিযোগের পর ফেরত

অবৈধ সংযোগের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, অভিযোগের পর ফেরত

মো. ইসহাক

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ ঘটনায় গত ১৮ জুন পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যুতের নিয়মিত গ্রাহক মেহেদী হাসান।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মে বিকেলে বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যান এ.বি.এম কাইয়ুম, সাহায্যকারী সাইফুল ইসলাম এবং বহিরাগত ইলেকট্রিশিয়ান আল আমিন তার বাড়িতে যান। সেখানে তারা বিদ্যমান বৈধ সংযোগে পরিবর্তন এনে সেটিকে অবৈধ সংযোগ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পারলে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়।

একপর্যায়ে মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে মেহেদী হাসান তাদের ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হন। টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা সংযোগটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়ে চলে যান।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, পুরো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস রেকর্ড ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একই চক্র এর আগেও এলাকার একাধিক নিরীহ গ্রাহককে নানা কৌশলে হয়রানি করে অর্থ আদায় করেছে।

তিনি আরও জানান, আবাসিক প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে নেওয়া ১২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লাইনম্যান এ.বি.এম কাইয়ুম। তার দাবি, গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ২০ হাজার টাকা বকেয়া বিল ছিল। সেই টাকা আদায়ের জন্য গেলে মেহেদী হাসান ১২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্য অভিযুক্ত সাহায্যকারী সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী মো. হামজা ইমাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টাফদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তদন্তের দায়িত্ব আমার নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আলাদা তদন্ত টিম রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ঘনঘন লোডশেডিং ও বিল সংক্রান্ত নানা জটিলতায় এমনিতেই অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকরা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন