নওগাঁর প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে লিবিয়ায় অপহরণের পর হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় আলমগীরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৯ জুন) আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর সংবাদ তার গ্রামের বাড়ি মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামে পৌঁছায়।
নিহত আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীরকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসীদের আস্তানায় আলমগীরসহ ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।
মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া বাংলাদেশিরা জানান, আলমগীরের কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সোমবার দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মরদেহ উদ্ধার ও দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন আলমগীরের ভাই জিল্লুর রহমান।
নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার জানান, ২৮ মার্চ কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে শেষবার মোবাইলে কথা হয়েছিল। কোনো সন্ত্রাসী পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চায়নি। হঠাৎ মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তারসহ পরিবার।