শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা

ডেস্ক রিপোর্ট

ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু খেলা নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এক বিশাল উৎসব ও উন্মাদনা। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ২৩তম আসরটি চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত । প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ তথা- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের আসর। ২০২৬ সালের ট্রফির জন্য রেকর্ড ৪৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা চার বছর আগে কাতারের তুলনায় এবার ১৬টি দল বেশি খেলবে। বিশ্বকাপে মোট ১০৪ টি ম্যাচের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৭৮টি ম্যাচ, মেক্সিকোতে ১৩টি এবং কানাডায় ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মেক্সিকোতে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবং ফাইনাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর্দা নামতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে প্রিয় দল, খেলোয়াড় এবং সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নানা আলোচনা। কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ ব্রাজিলের, আবার কেউ ইউরোপিয়ান দলগুলোর আধুনিক ফুটবল কৌশলের প্রশংসায় মুগ্ধ। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া সংবাদের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইফরান।

স্পেন সমর্থক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাহাবির হোসেন সাব্বির বলেন, বিশ্বকাপের সময় ক্যাম্পাসের পরিবেশ একেবারে বদলে যায়। রাত জেগে খেলা দেখার পরও সকালে সবাই ক্লাসে আসে শুধু ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আমি একজন স্পেনের সমর্থক।২০১০ সালের  ট্রফি জয়ের পর দীর্ঘদিন স্পেনের বিশ্বকাপ পথচলা কিছুটা মলিন ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ইউরো জয় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে মাঝমাঠের  রদ্রি, আর আক্রমণভাগের  লামিন ইয়ামাল ও গতিময় নিকো উইলিয়ামসের হাত ধরে এই দলটা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরো বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় পুরা ক্যাম্পাস জুড়ে অন্য রকম একটা আমেজ ছিলো, হলের নিচে বড় পর্দায় সবাই সহ খেলা দেখা, প্রিয় দলের পক্ষে জয় এলে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে মিছিল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, বিল্ডিংগুলাতে বড় পতাকা টাঙানো এই আনন্দঘন পরিবেশ ছিলো। তবে এইবারও চাই বড় পর্দায় খেলা দেখতে তবে  হলে  থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে সেই দিক বিবেচনা করে হল গুলো থেকে  নিরাপদ দূরত্বে খেলা দেখার আয়োজন করার জন্য বিশেষভাবে আহবান রইলো।

আর্জেন্টিনা সমর্থক ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা ইতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে যাচ্ছি যেটা আসলেই আনন্দের। সেই আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয় কারণ আমি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থক। গতবারের তুলনায় এবারের অনুভূতিগুলো আলাদা কারণ মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় দেখেছি, তাই চাপমুক্ত বিশ্বকাপ উপভোগ করবো এবার। এছাড়াও আর্জেন্টিনার এবারের দলটি গোছানো, যদিও কয়েকজন ইনজুরিতে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনা জিতে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। ঘরের কোণ ছেড়ে এবার ক্যাম্পাসের বড় পর্দায় হাজারো শিক্ষার্থীর সমবেত চিৎকারে খেলা দেখার রোমাঞ্চ হবে অনন্য। সব দলের সমর্থকদের জন্য রইল শুভকামনা।

জার্মানি সমর্থক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসাইন বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চার বছরে একবার আসা এক মহা উৎসব। আমি ব্যক্তিগতভাবে 'ডাই মানশাফট' বা জার্মানি ফুটবল দলের একজন কড়া সমর্থক। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ট্যাকটিকাল ফুটবল, শৃঙ্খলা আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। গত কয়েকটি আসরে আমাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও, এবার তরুণ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে দল যেভাবে গুছিয়ে উঠছে, তাতে জার্মানিকে নিয়ে আমার প্রত্যাশা আগের রূপে ফিরবে। এবার জার্মানি পঞ্চমবারের মতো ট্রফি ঘরে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা পরিশ্রম করবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য বন্ধুদের সাথে জার্সি পরে উল্লাস করে জয়ধ্বনি করার জন্য আমি অধীর আগ্রহী। ক্যাম্পাসে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি, তাই জার্মানির সমর্থক হিসেবে রাইভালদের (প্রতিপক্ষ দল) উদ্দেশ্যে এটুকুই বলব, মাঠে ফুটবলীয় লড়াই হবে, আর মাঠের বাইরে হবে সুস্থ ট্রোল ও আনন্দ। সবার জন্য শুভকামনা, কাপ এবার জার্মানিই জিতবে।

ব্রাজিল সমর্থক ও থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত জান্নাত বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে চারদিকে ফুটবল নিয়ে আলোচনা, বন্ধুদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় দলের জার্সি পরা মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, তাই অনুভূতি ও প্রত্যাশা আরও বেশি। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ও আক্রমণাত্মক স্টাইল আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। এবারও আশা করি ব্রাজিল ভালো খেলবে এবং বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেবে।

পর্তুগাল সমর্থক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব বলেন, বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগ, স্বপ্ন আর কোটি মানুষের ভালোবাসার নাম। আমার প্রিয় দল পর্তুগাল, তাই বিশ্বকাপ এলেই তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তবে আমার জন্য বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের মালিক তিনি। বয়সকে হার মানিয়ে এখনও দেশের জন্য লড়াই করে যাওয়া তার প্রতি সম্মান আরও বাড়িয়ে দেয়। আমার কাছে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার, কারণ প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তিনি নিজের কিংবদন্তি অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই একজন ভক্ত হিসেবে আমি মনে করি, তার অসাধারণ ক্যারিয়ার একটি বিশ্বকাপ ট্রফি দিয়ে পূর্ণতা পাওয়ার যোগ্য। আর তাকে যদি বিশ্বকাপ হাতে দেখতে পাই, সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন