নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম সাগরিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবুল খয়েরের ছেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জাকের (৪২) চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি নিজের কিডনি বিক্রি করার ইচ্ছার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
জাকের জানান, তার নিজস্ব কোনো বসতঘর নেই। বর্তমানে তিনি বড় বোন মৌসুমীর ঘরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। তবে বোনেরও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে তিনিও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্ধ জাকেরের স্ত্রী কাজল বেগম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কান্দপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পারিবারিক জটিলতার কারণে বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করছেন না।
অন্ধ জাকের বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসানের কারণে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে ঋণের বোঝা, আর্থিক সংকট এবং বাসস্থানের অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার নামে সরকারি বরাদ্দ এলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা আত্মসাৎ করতেন। ফলে তিনি কোনো সুবিধা পাননি। একইভাবে বর্তমান সরকারের সময়ও তিনি নিয়মিত কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।
জাকের বলেন, “আমি একজন অন্ধ মানুষ। কাজ করার সুযোগ নেই। চলাফেরা করতেও অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। অনেক কষ্টে জীবন চলছে। ঋণের চাপ ও মানুষের অবহেলায় আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই বাধ্য হয়ে কিডনি বিক্রির কথা ভাবছি।”
তবে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি অনুদান হিসেবে তিনি ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান অন্ধ জাকের। কিন্তু তার দাবি, এই অর্থ তার দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির এমন দুর্বিষহ জীবন অত্যন্ত মানবিক সংকটের বিষয়। তারা জাকেরের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।