শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

বিশেষ প্রতিনিধি

আজ ০৫ জুন (শুক্রবার), বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর এ দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলন (ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন দ্য হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট) এ দিনেই শুরু হয়েছিল। এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন পর্যন্ত। তখন থেকেই প্রতি বছর এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৪ সালে। প্রতি বছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন নয়া সংবাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইফরান।

আমাদের চারপাশে যা আছে তাদের পরস্পরের মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে পরিবেশ।পৃথিবী যত দ্রুত হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, পরিবেশও পরিবর্তিত হচ্ছে যা পৌঁছে দিচ্ছে একটি বিপজ্জনক পৃথিবীর দ্বারপ্রান্তে। আজ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই ভয়াবহতা সম্পর্কে সামান্য কিছু না বললেই নয়। প্রতিবছর ১৫ বিলিয়ন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে যার বিপরীতে মাত্র ৫ বিলিয়ন গাছ রোপণ করা হয়। কলকারখানার কালো ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ফসিল ফুয়েল থেকে নির্গত হচ্ছে বিপদজনক গ্যাস যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করে পৃথিবীকে হিট ট্র্যাপে পরিণত করছে। কার্বন নিঃসরণ এ বাংলাদেশের অবদান ০.৫% এর নিচে হওয়া সত্ত্বেও সবথেকে বেশি ভুক্তভুগী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সকলের মাঝে পরিবর্তন আসুক চিন্তাধারায়,কার্যক্রমে, আত্মিক উন্নতি সাধনে।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক পরিবেশ রক্ষার আদর্শ উদাহরণ। Zero Plastic waste এর মত কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমঞ্চে। এছাড়াও বৃক্ষরোপণ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ইত্যাদি চর্চা হোক নিয়মিত।

মো রকিবুল ইসলাম রবিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

পরিবেশ নিয়ে লিখতে উপলব্ধি করছি কি বীভৎসভাবেই না আমরা পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছি।উন্নয়নের নামে চারদিকে চলছে অবাধে গাছ কাটা।খাল-বিল ভরাট করে শুধু অট্টালিকা বানানো হচ্ছে দিনশেষে যা পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। গবেষণা বলছে,শুধুমাত্র বায়ুদূষণের কারনেই প্রতিবছর এদেশে ১ লাখ ২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে এইযে আমি আজকে পরিবেশ দিবসে লিখতে বসেছি,এই মাসেই রয়েছে একাধিক হিটওয়েভের আশংকা।এলিট ক্লাস হয়তো এসির নিচে থাকেন তবে এইদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে যারা একদম দরিদ্র তাদের অবস্থাটি ভাবুন একবার!
মোট কথা পরিবেশের ধ্বংস করে আমরা নিজেদেরই সর্বনাশ করছি প্রতিনিয়ত। একদম প্রান্তিক পর্যায় থেকে মানুষকে সচেতন করার বিকল্প নেই।কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো দৃঢ়কণ্ঠে সকলের শপথ নিয়ে বলতে হবে,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই! আমরা কি সত্যিই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারব?
চারপাশে তাকালেই প্রকৃতির নীরব আর্তনাদ চোখে পড়ে। একসময় যে নদীগুলো স্বচ্ছ জলে প্রাণের গল্প বলত আজ সেগুলো দূষণ আর প্লাস্টিকের ভারে ক্লান্ত। সবুজ বনভূমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কংক্রিটের জঙ্গলে। অস্বাভাবিক গরম, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় আজ আমাদের বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য এর সবচেয়ে বড় কারণ আমরা নিজেরাই।
আমাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনের পৃথিবী হবে আরও সবুজ, নির্মল ও মানবিক যেখানে উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে। নদী হবে স্বচ্ছ, বনভূমি হবে সবুজ, বাতাস হবে বিশুদ্ধ এবং মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করবে। অবশেষে এটাই বলতে চাই, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত বাঁচতে দিতে হবে, আমরা কোন প্রাকৃতিক প্রকৃতি তৈরি করে পরিবেশের ক্ষতি করতে চাই না।

ফারিহা আক্তার রাফা, আইন ও বিচার বিভাগ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ রূপ আমরা দেখছি, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। বন্যা, তীব্র তাপদাহ এবং নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ আমাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেবল জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়, এটি পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের চারণভূমিও হতে পারে। আমরা ক্যাম্পাসকে পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে পারি, যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারি এবং পানির অপচয় রোধ করে ও বৃক্ষ রোপন করে পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও সজীব করে তুলতে পারি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পরিবর্তনের শুরুটা হোক আমার আপনার হাত ধরেই।

মীর রিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

পরিবেশের সঙ্গে মানুষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ ছাড়া মানুষের জীবন অকল্পনীয়। তবে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে দিন দিন প্রকৃতি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বৃক্ষ। বৃক্ষকে বলা হয় মানুষের পরম বন্ধু। আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বৃক্ষ সরবরাহ করে এবং মানুষের ত্যাগ করা দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃক্ষ গ্রহণ করে। এছাড়া বৃক্ষ আমাদের ফলমূল দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা এই পরম বন্ধুকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছি। অধিক জনসংখ্যার চাপে বন উজাড় করে তৈরি করছি বাসস্থান। তাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই ক্ষণে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরম বন্ধু বৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। আসুন, নিজে গাছ লাগাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

জাকিয়া সুলতানা, ইতিহাস বিভাগ



প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন