ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব যশোরের সদস্যপদ প্রাপ্তি এবং ক্লাবকে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত’ করার দাবিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যোগ্য ও পেশাদার সাংবাদিকদের অবিলম্বে সদস্যপদ দেওয়ার দাবিতে এবার সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর। বুধবার প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের এক সভায় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের তীব্র অভিযোগ তোলেন গণমাধ্যম নেতারা। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করা অনেক জ্যেষ্ঠ ও নবীন সাংবাদিক বছরের পর বছর আবেদন করেও সদস্যপদ পাচ্ছেন না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার পরও অনেকের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, একটি বিশেষ মহলের আধিপত্য বজায় রাখতেই যোগ্যদের বাইরে রেখে এই টালবাহানা করা হচ্ছে।
বিপরীতে সম্প্রতি এমন কিছু ব্যক্তিকে ক্লাবের সদস্য করা হয়েছে, যাদের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা খুবই নগণ্য এবং যাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নেতৃবৃন্দের মতে, এই বৈষম্য অব্যাহত থাকলে যশোরের সাংবাদিক সমাজে চরম বিভক্তি ও অস্থিরতা তৈরি হবে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে— অবিলম্বে যোগ্য ও পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদান, দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর দ্রুত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজন এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নিজস্ব কার্যালয় সম্প্রসারণ।
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুবর্ণভূমি সম্পাদক আহসান কবীর বাবু, সংগঠনের সাবেক সভাপতি এম. আইউব, নূর ইসলাম এবং শহিদ জয়সহ শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।সভা শেষে ইউনিয়নের নেতারা প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রেসক্লাব সভাপতি জানান, দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।