বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ গোলাম মাওলা শাহিনকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় নেতাকর্মীরা

আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ গোলাম মাওলা শাহিনকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের গুঞ্জন ও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে রাজপথের লড়াকু ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেই সাহসী ও ত্যাগী নেতা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিনকে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূলের সিংহভাগ নেতাকর্মী।

জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে বিগত দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গোলাম মাওলা শাহিন ছিলেন অন্যতম প্রধান অগ্রনায়ক। রাজধানী ঢাকার রাজপথ কাঁপানো এই ছাত্রনেতা থেকে যুবনেতা হয়ে ওঠা শাহিনের সাহসী নেতৃত্ব দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সব সময়ই এক বড় অনুপ্রেরণার নাম।

নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আবেগ ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন সেই কঠিন দিনগুলোর কথা, যখন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের চরম দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার ও পাহারার মুখে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসার মতো পরিস্থিতি ছিল না। দলীয় কার্যালয় যখন প্রায় নেতৃত্বশূন্য ও অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকত, তখনো কোনো এক অদৃশ্য শক্তির মতো বুক চিতিয়ে নিয়মিত কেন্দ্রীয় অফিসে বসতেন গোলাম মাওলা শাহিন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলীয় কার্যালয় সচল রাখা এবং সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়ে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন, যা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য ও রাজপথে আপসহীন ভূমিকার কারণে বিগত সরকারের আমলে ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে গোলাম মাওলা শাহিনকে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। অসংখ্যবার পুলিশি হামলা ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। রাজপথে আন্দোলন সফল করতে গিয়ে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এই বীর যোদ্ধা। শুধু তাই নয়, স্বৈরশাসকের রোষানলে পড়ে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তাঁকে অন্ধকার কারাকক্ষে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু কোনো জুলুম-নির্যাতন বা মৃত্যুর ভয় তাঁকে আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

যুবদলের মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, যুবদল বিএনপির ভ্যানগার্ড বা ভ্যানগার্ড-এর মতো কাজ করে। তাই এই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি মাঠের ভাষা বোঝেন, কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পিছপা হন না। গোলাম মাওলা শাহিন হলেন এমনই একজন পরীক্ষিত ও খাঁটি নেতা, যিনি ত্যাগ ও সাহসিকতার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন।

নেতাকর্মীদের মতে, "আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ড্রয়িংরুমের রাজনীতি করা কোনো নেতা চাই না। আমরা চাই গোলাম মাওলা শাহিন ভাইয়ের মতো রাজপথ থেকে উঠে আসা নেতাকে, যিনি গুলির মুখে দাঁড়িয়েও মাঠ ছাড়েননি। তাকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠন আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত আরও মজবুত হবে।"

জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আগামী দিনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করতে গোলাম মাওলা শাহিনের মতো রাজপথের লড়াকু, ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৈনিককে সংগঠনের শীর্ষ পদে (সভাপতি) আসীন করার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি জোরালো আহ্বান ও আকুল আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের যুবসমাজ।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন