ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই সুযোগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৯ মে) ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের নতুন একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। ইতোমধ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ সেখানে অংশগ্রহণ করেছে। এর আগে ই-ফর্ম কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিশনের মাধ্যমে গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো নিয়ে সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ , বিমানবন্দর পুনরায় চালু এবং নতুন করে ভুল্লী ও রুহিয়া নামে দুটি উপজেলা গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এ সময় তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সব সময় ইতিবাচকভাবে চিন্তা করবেন। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য আরও কী কী করা যায়, সেসব বিষয় তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। এখানে বড় কোনো শিল্প-কারখানা নেই, নেই পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ কিংবা বড় ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাই এসব বিষয় নিয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শুধু ঠিকাদারি ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষিপণ্যভিত্তিক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে।
এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, মা-বোনদের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করা হয়েছে, সেটি নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করুন। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য দূর করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য দেওয়া কৃষক কার্ডও একইভাবে কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।