বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে ভাগ্যবদল বদলগাছীর কৃষক জামিল কাজীর

গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে ভাগ্যবদল বদলগাছীর কৃষক জামিল কাজীর

সিয়াম সিদ্দিক

অসময়ে টমেটো চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নহেলা বাঁশকাঠা গ্রামের আদর্শ কৃষক মোঃ জামিল কাজী। আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে উন্নত ‘আনছাল’ জাতের গ্রীষ্মকালীন (লেট) টমেটো চাষ করে অল্প সময়েই বিপুল লাভের মুখ দেখিয়েছেন তিনি। তার এই বাম্পার ফলন ও চড়া দাম দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও লেট টমেটো চাষে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


কৃষক জামিল কাজী জানান, “চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে আনছাল জাতের হাইব্রিড টমেটো চাষ করেন। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও মালচিং পেপারসহ তার মোট খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে অসময়ের এই টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে। মাত্র ১৪ শতাংশ জমি থেকেই সব খরচ বাদ দিয়ে তার ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিট আয় করা সম্ভব হচ্ছে।”


তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বা পলিথিন দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি ঢেকে রাখা হয়।মাটিতে সরাসরি সূর্যালোক ও অতিরিক্ত পানি না লাগায় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফলে ঘন ঘন সেচ দিতে হয় না। পলিথিনে ঢাকা থাকায় জমিতে অপ্রয়োজনীয় আগাছা জন্মাতে পারে না। গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়ায় উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।”


উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, “সাধারণত সময়ের চেয়ে গ্রীষ্মকালীন বা লেট টমেটো চাষ অনেক বেশি লাভজনক। উন্নত 'আনছাল' জাতের টমেটো সঠিক নিয়মে ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত  মুনাফা করা সম্ভব। জামিল কাজীর এই অভাবনীয় সাফল্য উপজেলার অন্যান্য প্রান্তিক চাষীদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।”


প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন