গলায় ঝোলানো দুটি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, হাতে দামি আইফোন আর বিলাসবহুল মাইক্রোবাস। সাংবাদিক পরিচয়ের এই চাদর গায়ে জড়িয়ে সীমান্ত থেকে ইয়াবার বিশাল চালান নিয়ে অনায়াসেই পার হতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আনোয়ার (৫৬)। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিক্স ডগ ‘হেনরী’র তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির কাছে ভেস্তে গেল মাদক পাচারের এই অভিনব কৌশল।
সোমবার বিকেলে টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় এই ভুয়া সাংবাদিককে। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। আটক আনোয়ার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ নুরের ছেলে।
বিজিবি জানায়, হ্নীলা থেকে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাস হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশির প্রস্তুতি নেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় চালকের আসনে থাকা আনোয়ার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কর্তব্যরত জোয়ানদের সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন এবং জোরপূর্বক চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা চালান। বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে গাড়িটি গতিরোধ করার পর মাঠে নামানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর ‘হেনরী’কে।
তল্লাশিকালে ডগ ‘হেনরী’র নিখুঁত সিগন্যালে মাইক্রোবাসের পেছনের সিটের কভারের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় দুটি ভুয়া সাংবাদিক আইডি কার্ড। মাদক পাচারের অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে আনোয়ারকে আটক এবং তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও আইফোনটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আনোয়ার স্বীকার করেছেন, হ্নীলার সীমান্ত এলাকা থেকে কম দামে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কক্সবাজার শহরে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই চক্রের পেছনে থাকা মূল চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।