বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
সন্তানের হাত ধরে নামাজে যাওয়া হয়নি, গেটেই কাটছে ঈদ

সন্তানের হাত ধরে নামাজে যাওয়া হয়নি, গেটেই কাটছে ঈদ

মো. মিনহাজুর রহমান মাহিম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস এখন ফাঁকা। ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে (২১ মে-১৩ জুন) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলেই প্রিয়জনের কাছে ফিরে গেছেন। হলগুলোও বন্ধ (২৩ মে-৭ জুন)। কিন্তু শূন্য এই ক্যাম্পাসেও কেউ কেউ রয়ে গেছেন, যাদের যাওয়ার উপায় নেই, দায়িত্ব যে তাদের ছাড়েনি।

এরা হলেন ক্যাম্পাসের আনসার সদস্যরা। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জোন মিলিয়ে ৯৪ জন আনসার সদস্য প্রতিনিয়ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। ঈদের দিনেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রধান ফটক থেকে হলের পকেট গেট; সর্বত্র তারা দাঁড়িয়ে আছেন, যখন বাকি সবাই পরিবারের সাথে।

আনসার সদস্য আনিসুর বলেন, ‘দায়িত্ব রেখে তো যাওয়া যায় না। বাচ্চাদের বেশি মিস করি। ঈদে বাড়ি থাকলে একসাথে নামাজ পড়তে যেতে পারতাম।’

কথাগুলো সহজ, কিন্তু ভেতরে একটা চাপা কষ্ট স্পষ্ট। ঈদের সকালে সন্তানের হাত ধরে মাঠে না যেতে পারার বেদনা, এটুকু কথায় অনেক কিছু বলা হয়ে যায়।

আরেক সদস্য ফরিদুল বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব। তাই কষ্ট হলেও মেনে নিতে হয়। রোযার ঈদ করিনি, কোরবানির ঈদও এখানেই থাকতে হবে। তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছি ভেবে ভালো লাগে।’

পরপর দুটি ঈদ পরিবার ছাড়া, এই বাস্তবতাকে তিনি মেনে নিয়েছেন সেবার মনোভাব থেকে।

আরেকজন সদস্য জানালেন, ‘সর্বশেষ ঈদও পরিবারের সাথে করতে পারিনি। এবারও যাওয়া হচ্ছে না। এখানে আমরা যারা আছি, আমরাই পরিবারের মতো করে ঈদ পালন করি।’

সহকর্মীরাই তাদের ঈদের সঙ্গী, এই ছোট্ট কথাটুকুতে একটা নিঃসঙ্গ উষ্ণতা আছে।

তবে দায়িত্বের প্রতি এই নিষ্ঠার বিপরীতে রয়েছে বঞ্চনার এক দীর্ঘ গল্প। দিনরাত ক্যাম্পাস পাহারা দেওয়া এই মানুষগুলোর থাকার পরিবেশ এখনো অমানবিক। একাধিক আনসার সদস্য জানান, পকেট গেটের নিরাপত্তাকক্ষগুলোতে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, নেই ফ্যান, নেই আলো। দিনের ভ্যাপসা গরমে ডিউটি শেষে ক্যাম্পে ফিরেও বিশ্রামের পরিবেশ নেই। রাতে মশার উপদ্রব সহ্য করে কাটাতে হয়। বৃষ্টি এলে নিরাপত্তাকক্ষ ও ক্যাম্পে পানি ঢুকে পড়ে। কুষ্টিয়া জোনের ক্যাম্পে নেই আলাদা শৌচাগার। যেতে হয় মসজিদের শৌচাগারেই।

তারা আরও জানান, এর আগেও এসব সমস্যার কথা জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু সমাধান আসেনি। প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকক্ষের ফ্যানগুলোও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ ডিউটি শেষে ন্যূনতম স্বস্তিটুকুও তাদের জোটে না।

ঈদের ছুটিতে শূন্য ক্যাম্পাসে এই মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছেন পরিবার ছেড়ে, আরাম ছেড়ে। সংস্থানটুকু না পেয়েও দায়িত্ব পালন করছেন নিরলসভাবে। প্রশ্ন একটাই, তাদের প্রতি দায়িত্বটুকু কবে পালন হবে?

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন