দীর্ঘদিনের নানা সংকট আর শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের মধ্যেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। নতুন এই প্রশাসনের কাছে তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে একাডেমিক মানোন্নয়ন, আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধান, গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি এবং একটি শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন গঠনের দাবি তুলছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন উপাচার্যের কাছে নিজেদের প্রত্যাশা ও ভাবনার কথা জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল তিন ছাত্রসংগঠন— ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, ছাত্রনেতা হিসেবে নতুন উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। যেহেতু তিনি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের শুরুর দিকেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাই আমরা আশা করি তিনি তাঁর মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে—যেমন আবাসন সংকট, শিক্ষক সংকট, গবেষণার অপ্রতুল সুযোগ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা—এসব বিষয়ে তিনি কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারন সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া বলেন, একজন উপাচার্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অভিভাবক। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, নতুন উপাচার্য দল-মত নির্বিশেষে এবং সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন। তিনি যেন সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য ও আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা। যেহেতু তিনি একজন গবেষক, তাই গবেষণাখাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতিফলন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সেক্টরে দেখা যাবে বলে আমরা আশাবাদী। গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের হলকেন্দ্রিক সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশাসনের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থী যেন নির্ভয়ে ও সহজভাবে নিজের দাবি, সমস্যা কিংবা প্রত্যাশার কথা উপাচার্যের কাছে তুলে ধরতে পারে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান পায়। শিক্ষার্থীবান্ধব, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে নতুন উপাচার্য কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য সরকার বলেন, “নতুন উপাচার্যকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সংকট রয়েছে। এসব সংকট চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রত্যাশা রাখি। চলমান হল নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে আবাসন সংকট নিরসনে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলেও আশা করছি।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে একটি মিনি হাসপাতালে উন্নীত করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একাডেমিক পরিবেশের মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে উন্নতমানের গবেষক তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেও প্রত্যাশা রাখি। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করি।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন (১৬ মে, শনিবার) যোগদান পত্রে সাক্ষরের মধ্য দিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।