কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত প্রায় ২০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একের পর এক ঘটনায় খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত ১৩ মে বুধবার রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের জামাই গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়ার গোয়ালঘরের তালা কেটে ২টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত ২ মে রাতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম আকন্দ ও তার ভাই জিয়াউর রহমানের গোয়ালঘর থেকে ৫টি গরু চুরি হয়। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে পিকআপ ভ্যানের পিছু নিলেও শেষ পর্যন্ত চোরদের আটক করা সম্ভব হয়নি।।১০ মে রাতে সিদলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সোহাগের গোয়ালঘর থেকে ২টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু চুরি হয়। এর আগে একই ইউনিয়নের চর পিতলগঞ্জ এলাকায় কৃষক জিল্লাল মিয়ার ৪টি এবং কৃষক অনিক মিয়ার আরও ৪টি গরু চুরি হয়।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, পুলিশ চোরের নাম উল্লেখ করে মামলা দিতে বলেছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে কারা গরু চুরি করেছে তা শনাক্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে হোসেনপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ আর মামলা এক জিনিস নয়। অনেক সময় অভিযোগ দিলেও পরে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আগ্রহ দেখান না। তবে কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হক বলেন, গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নিতে হবে। যারা গরু লালন-পালন করেন, তারা গরুকে সন্তানের মতোই যত্নে বড় করেন। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। একটি গরু চুরি হওয়ার কষ্ট আমি অনুভব করি। এদিকে ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।