বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
অধ্যক্ষ পদে ফিরতে মরিয়া দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা: এমপির ডিও লেটার ঘিরে বিতর্ক

অধ্যক্ষ পদে ফিরতে মরিয়া দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা: এমপির ডিও লেটার ঘিরে বিতর্ক

জামান মাসুদ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক ওসমান গণি, যিনি দুর্নীতির অভিযোগে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর-গুনাইহাটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, এখন পুনরায় সেই পদে ফিরতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। বিস্ময়করভাবে, এই প্রক্রিয়ায় তাকে সহায়তা করতে আধা সরকারিপত্র বা ডিও লেটার দিয়েছেন নাটোর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ।
ওসমান গণি ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ২০১৫ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষের পদ দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগ ওঠে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ভুক্তভোগীরা নিয়োগ বাবদ দেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী তার নিয়োগ দুর্নীতির বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সম্প্রতি অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল হতে ওসমান গণি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের শরণাপন্ন হন। সংসদ সদস্যের দেওয়া ডিও লেটারে তাকে বেতন-ভাতাসহ স্বপদে বহাল করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সংসদ সদস্য প্রথমে কিছু মনে নেই বললেও পরে পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আছে জেনেই তিনি সুপারিশ করেছেন। তবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় সাবেক অধ্যক্ষের আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়নি।
আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হয়েও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পাওয়া প্রসঙ্গে ওসমান গণি এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কোনো সুনির্দিষ্ট দল নেই এবং কাজের স্বার্থে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের সাথেই তাকে চলতে হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করে তিনি সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে চাকরিতে ফিরতে চান।
বর্তমানে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে এই ঘটনা নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এমন প্রভাবশালী সুপারিশ প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন