স্বামীর মৃত্যুর পর নেমে এসেছিল অভাব-অনটন। তবে হার মানেননি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৭০ বছর বয়সী নূর খাতুন। নিজের পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তিতে গড়ে তুলেছেন সফল একটি ডেইরি খামার। এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তার খামারের প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের ষাঁড় ‘কালাইয়া’কে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
নূর খাতুন উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী চরখিজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী জানে আলম চট্টগ্রাম বন্দরে মাঝির কাজ করতেন। প্রায় আট বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। তিন ছেলের স্বল্প আয়ে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়লে নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তিন বছর আগে বড় ছেলেকে গরু পালনের পরামর্শ দেন নূর খাতুন। ছেলে একটি বাছুর কিনে দিলে সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব নেন তিনি নিজেই। সেই ছোট উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে “খাজা গরীবে নেওয়াজ ডেইরি ফার্ম”।
বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৭টি ষাঁড়, ৭টি গাভী, ৬টি বাছুর ও ৩টি ছাগল। গাভী থেকে প্রতিদিন মিলছে ২০ থেকে ২২ লিটার দুধ। দুধ বিক্রি করেও নিয়মিত আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭টি ষাঁড়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে কালো রঙের ষাঁড় ‘কালাইয়া’। প্রায় দেড় বছর বয়সী এ ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। বিশাল আকৃতির কারণে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে একসঙ্গে কয়েকজনের সহায়তা লাগে।
নূর খাতুন বলেন, নিজের পালন করা গাভীর বাছুর বড় করেই তিনি খামার গড়ে তুলেছেন। গরুগুলোকে কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, ধানের কুড়া, ভূষি ও ভুট্টার গুঁড়া খাওয়ানো হয়। ‘কালাইয়া’র দাম তিনি চেয়েছেন ৭ লাখ টাকা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার বলেন, নূর খাতুনের মতো নারী উদ্যোক্তারা সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন।
তিনি আরো জানান, বোয়ালখালী উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ২৪ হাজার ১৯০টি। বিপরীতে উপজেলার প্রায় ৮০০ খামারে প্রস্তুত রয়েছে ৩১ হাজার ১৬২টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৯৭২টি বেশি।