ফরিদপুরের সালথায় পাটের আধুনিক চাষাবাদ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পাটজাত পণ্যের বহুমুখী সম্ভাবনা তুলে ধরে পাট উৎপাদনকারী কৃষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর, সালথার আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে “পাট উৎপাদন কলাকৌশল ও প্রযুক্তি” বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন “উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৬০ জন পাট চাষি অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (আইন-১ অধিশাখা) এ. কে. এম. বজলুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার, ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, ফরিদপুর বিজেআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওমর আলী এবং ফরিদপুর জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক মো. লুৎফুল আমীন।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, একসময় শুধু দড়ি, চট ও বস্তা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে পাটের ব্যবহার বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। এখন পাট থেকে প্রায় ২৮১ ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
আধুনিক আসবাবপত্র, উন্নত মানের শাড়ি, স্যুট, প্যান্ট, জিন্স বা ডেনিম কাপড় ছাড়াও গাড়ির বডি ও ঢেউটিন তৈরিতেও পাট ব্যবহার করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ খাত। কৃষকদের পাট ও পাটবীজ চাষে আগ্রহী করতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পাট অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে পাটবীজ, সার, বালাইনাশক ও কৃষিযন্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী পাটবীজ চাষিদের মাঝে পাটজাত ব্যাগ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।