বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
নোবিপ্রবিতে অডিটোরিয়াম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা; সমালোচনার ঝড়, পুনর্বিবেচনার দাবি

নোবিপ্রবিতে অডিটোরিয়াম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা; সমালোচনার ঝড়, পুনর্বিবেচনার দাবি

সালমান হোসেন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামের আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে অডিটোরিয়াম ব্যবহারে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। দিনে দুইটি স্লটে ভাগ করে প্রতি স্লটের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং একই সঙ্গে দুই স্লট ব্যবহারের জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বহিঃস্থ প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের জন্য এক স্লটে ১০ হাজার এবং দুই স্লটে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে।

নতুন এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক, ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় অডিটোরিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে ফি নির্ধারণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিকীকরণ নয়। প্রতি স্লটে ৩ হাজার টাকা ভাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

অথচ প্রশাসন বারবার একই কথা বলে যে তারা শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চায়। এটাই কি তার প্রতিফলন? আমরা আশা করি, প্রশাসন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান বলেন, নোবিপ্রবির অডিটোরিয়াম ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা শিক্ষার্থীবান্ধব হয়নি। বর্তমানে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো TSC বা আলাদা অডিটোরিয়াম নেই। ফলে অধিকাংশ ক্লাব ও বিভাগীয় আয়োজনের জন্য এই অডিটোরিয়ামই একমাত্র ভরসা। অডিটোরিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যয় রয়েছে তা ঠিক, তবে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হলে বিভিন্ন ক্লাব ও বিভাগীয় কার্যক্রম আয়োজন অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি  শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবিও জানান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাস থেকে ইনকামের বিভিন্ন খাত থাকতে পারে, তবে অবশ্যই সেই খাতগুলো যেন শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে না হয়। অডিটোরিয়াম আধুনিক করা, এলইডি লাগানো,এসব অবশ্যই ভালো উদ্যোগ, এজন্য প্রশাসন প্রশংসা পেতেই পারে। কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এসব সুবিধা ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই টাকা দাবি করা হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, কাজগুলো শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য না করে বরং নতুন একটা আয়ের পথ তৈরি করার জন্য করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের মানুষের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালান, সমস্যা নেই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীবান্ধব হয়, সেটাই সবার প্রত্যাশা।

ফি নির্ধারনের বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হক বলেন, অডিটোরিয়াম রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর যেনো কোনো অপব্যবহার না হয়, সেদিক বিবেচনায় নামমাত্র পরিমাণে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন