হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোটান্দর এলাকায় সড়কের পাশে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফদ্রখলা-কোটান্দর-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের কোটান্দর অংশে খামারের স্তূপীকৃত গোবরের দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলজিইডির পাকা সড়ক ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে গোবরের বিশাল ভাগাড়। স্থানীয় মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদের ছেলে রবিন মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শোধন বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা ছাড়া খামারের বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে রোদে পচে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, আর বৃষ্টি হলে গোবর মিশ্রিত দূষিত পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সৃষ্টি করছে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দুর্গন্ধের কারণে দীর্ঘসময় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, পাশাপাশি পিচ্ছিল বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
পরিবেশবাদীরা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে খোলা স্থানে খামারের বর্জ্য ফেলে রাখা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গোবর থেকে নির্গত মিথেনসহ ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে, একই সঙ্গে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উর্বরতাও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কামরুল উদ্দিন বলেন, রাস্তা কোনো ব্যক্তিগত ডাস্টবিন নয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে যারা আস্তাকুঁড়ে পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
স্হানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় নাক-মুখ চেপেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই মিলছে না। বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে মশা-মাছি ও রোগজীবাণু, যা আশপাশের বসতঘরে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামার পরিচালনার ন্যূনতম নিয়ম না মেনে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা চলতে পারে? অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়দের বারবার আপত্তি সত্ত্বেও খামার মালিক রবিন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়কের পাশের এই বর্জ্যের ভাগাড় অপসারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বা কম্পোস্ট পিট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। জনস্বার্থে দ্রুত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।