সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দক্ষিণের পাথারের তিন মাঠে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান নাবী করে আবাদ হয়েছে। একই মাঠে দুচার দশ বিঘা জমির ধান ফসলে পুরোপুরি ছড়া বেরিয়েছে। আবার পাশের দশ পনেরো বিঘা জমির ধানে পাক ধরেছে। আবার অনেক জমির ধানে সবে ছড়া বেরুচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর পর সরেজমিনে ঘুরে এমন দেখা গেছে।
উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সুজা , কৈবর্তগাতী , গোনাইগাতি মাঠে শত শত বিঘা জমিতে কৃষকেরা এবারের মৌসুমে নানা জাতের বোরো ধান ফসলের আবাদ করেছেন। এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সুজা মাঠে আবাদী জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার বিঘা , কৈবর্তগাতী মাঠে আবাদী জমির পরিমাণ প্রায় উনিশশো বিঘা ও গোনাইগাতি মাঠে আবাদী জমির পরিমাণ প্রায় আটশো বিঘা। মোহনপুর ইউনিয়নের আবাদী মাঠ তিনটি নীচু এলাকা । পাথার এলাকা বলে পরিচিতি পেয়েছে । এলাকার কৃষকেরা জানান সুজা , কৈবর্তগাতী , গোনাইগাতি আবাদী মাঠে বছরে দুটি সরিষা ও বোরো ধান ফসলের আবাদ হয়। বোরো ধান কাটার পর বর্ষা মৌসুমের প্রথমদিক থেকে মাস চারেক সময় আবাদী মাঠগুলোর শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। আবাদী জমিগুলোয় পানি নেমে শুকিয়ে যাওয়ার পর সরিষা ফসলের আবাদ করা হয়। আর সরিষা ফসল তোলার পর বছরের প্রধান বোরো ধান ফসলের আবাদ হয়। এলাকার কৃষকেরা জানান এবারে মাঠ তিনটিতে সপ্তাহ দুয়েক দেরিতে বোরো ধান ফসলের আবাদ শুরু হয়। আবাদী মাঠগুলো থেকে বন্যার পানি দেরিতে নামা ও বৃষ্টিতে সরিষা ফসলের আবাদ দেরিতে হয়েছে। আর সরিষা ফসল আবাদ দেরিতে হওয়ায় সে ফসল দেরিতে উঠেছে। এর কারণে বোরো ধান আবাদ দেরিতে হয়েছে। এলাকার মাঠ তিনটিতে বোরো ধান নাবী করে আবাদ হয়েছে।
সুজা গ্রামের কৃষক মো. রাছির সরকার বলেন এবারে তিনি প্রায় বারো বিঘা জমিতে ২৯ জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন এবারে নাবী করে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বন্যার পানি দেরিতে নামা ও বৃষ্টিতে সরিষা আবাদ দেরিতে করায় বোরো ধানের আবাদ প্রায় সপ্তাহ দুয়েক সময় পিছিয়েছে। কৈবর্তগাতী মাঠে প্রায় তিন বিঘা জমিতে আলম আলী বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন নাবী আবাদের কারণে এবারে ধান কাটা সপ্তাহ দুয়েক পর থেকে পুরোদমে শুরু হবে।