বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
কাজী অফিসের মাধ্যমে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ:ইসলাম কী বলে?

কাজী অফিসের মাধ্যমে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ:ইসলাম কী বলে?

ডেস্ক রিপোর্ট

দাম্পত্য জীবনে বিবাদের জেরে অনেক নারী বর্তমানে কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে থাকেন। তবে এই নোটিশ পাঠালেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় কি না—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক অস্পষ্টতা রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ এবং বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নির্ভর করে কাবিননামার শর্ত এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম ও স্ত্রীর ক্ষমতা:

ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তালাকের মূল অধিকার স্বামীর থাকলেও, বিয়ের সময় স্বামী যদি স্ত্রীকে বিচ্ছেদের ক্ষমতা প্রদান করেন, তবেই স্ত্রী তালাক দিতে পারেন। বাংলাদেশের কাবিননামার (নিকাহনামা) ১৮ নম্বর কলামে এই ক্ষমতা স্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিই এই নোটিশের প্রধান ভিত্তি। যদি এই কলামে স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়া থাকে, তবে তিনি কাজী অফিসের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তালাকের নোটিশ পাঠাতে পারেন, যা শরিয়াহর দৃষ্টিতে ‘তালাকে তাফভিজ’ হিসেবে বৈধ।

আইনি প্রক্রিয়া ও ৯০ দিনের সময়সীমা:

বাংলাদেশের ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী তালাকের নোটিশ পাঠালেই তা সাথে সাথে কার্যকর হয় না। নিয়ম অনুযায়ী: নোটিশের একটি অনুলিপি স্বামী যে এলাকায় বসবাস করেন সেই এলাকার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে পাঠাতে হবে।চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার জন্য একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।যদি এই ৯০ দিনের মধ্যে কোনো মীমাংসা না হয় অথবা স্ত্রী নোটিশ প্রত্যাহার না করেন, তবেই ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর তালাকটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।যদি তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকেন, তবে ৯০ দিন বা সন্তান প্রসব—যেটি পরে হবে, সেই সময় পর্যন্ত তালাক স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে আইনত তালাক কার্যকর হবে না।

শরিয়াহর বিকল্প পদ্ধতি:

যদি কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া না থাকে, তবে তিনি সরাসরি নোটিশ পাঠিয়ে তালাক কার্যকর করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে: খোলা তালাক: স্বামীর সম্মতিতে নির্দিষ্ট কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে (যেমন মোহরানা মওকুফ) বিচ্ছেদ করা। আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ: স্বামী নিখোঁজ থাকলে, ভরণপোষণ না দিলে বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে স্ত্রী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বিয়ে বিচ্ছেদ (ফাস্খ) ঘটাতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কাজী অফিস থেকে নোটিশ পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নোটিশটি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে কি না এবং ৯০ দিনের সময়সীমা সঠিকভাবে অতিবাহিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে দেনমোহর আদায় বা দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাবিননামার শর্তাবলি যাচাই করা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন