ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) “উন্নয়ন (৩য় পর্যায়)—১ম সংশোধিত” শীর্ষক প্রকল্পের অধিকাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রকল্পে পূর্বে অনুমোদিত ৩৪১ জন জনবলের এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ভৌত অগ্রগতি ৭৪% এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৭.৬৭% (এপ্রিল/২০২৬ পর্যন্ত)। মোট ৩২টি অংশের মধ্যে ১৮টি ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে এবং বাকি ১০টির কাজ চলমান রয়েছে।
যেসব ভবনের কাজ শেষ:
সমাপ্ত অংশের মধ্যে রয়েছে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি, ইবনে সিনা (পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়া) বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন সম্প্রসারণ, বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন সম্প্রসারণ, চিকিৎসা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, সোলার প্যানেল এবং মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণসহ আরও বেশ কয়েকটি কাঠামো।
যেসব ভবনের কাজ চলছে:
চলমান অংশগুলোর মধ্যে শহীদ আবরার ফাহাদ হল (হল নং-১, ১০০০ আসন), ছাত্র হল নং-২ (১০০০ আসন) এবং ছাত্রী হল নং-১ ও নং-২ (প্রতিটিতে ১০০০ আসন) — এই চারটির নির্মাণ প্রায় ৯৫% সম্পন্ন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন (৩৬টি ইউনিট) এবং কর্মচারীদের আবাসিক ভবনও ৯৫ শতাংশ শেষ। কবি গোলাম মোস্তফা একাডেমিক ভবনের কাজ ৯০ শতাংশ এবং শহীদ আনাস (শেখ রাসেল) হলের কাজ ৮৫% সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল ছাড়া সম্পন্ন ভবন পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। বিশেষত চিকিৎসা কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্মী না থাকলে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। একইভাবে চারটি হলে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আসন প্রস্তুত হলেও হাউস টিউটর, আবাসিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকলে আবাসিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোলার প্যানেলসহ বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন পরিচালনায় দক্ষ টেকনিক্যাল জনবলের অনুপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পের মোট জনবলের মধ্যে ননটেকনিক্যাল ২৫৫ জন এবং টেকনিক্যাল ৮৬ জন।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. নওয়াব আলী বলেন, “জনবল নিয়োগ না হলে এই প্রকল্পে সুফলের চেয়ে বিফলই বেশি হবে। সম্পন্ন ভবনগুলোতে বর্তমানে অস্থায়ী জনবল দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এবিষয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নিয়োগ ছাড়াই যেহেতু প্রকল্প মেয়াদ শেষ হচ্ছে, আপাতত নিয়োগ নিয়ে চিন্তা ভাবনা নাই। সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে।”