যশোরের শীর্ষস্থানীয় ১০-১২ জন পেশাদার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোংরা অপপ্রচারে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ‘যশোরের মিডিয়া কোরপশন’ নামক একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে মানহানিকর ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের তদন্ত শুরু হতেই চক্রটি এখন স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
গত কয়েকদিন ধরে যশোরের প্রথম সারির গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, শহরের একটি চিহ্নিত ব্ল্যাকমেইলার ও চাঁদাবাজ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার বুলিং চালাচ্ছে। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য।
বুধবার সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর সাইবার ইউনিটের তদন্ত শুরু হয়। বিষয়টি টের পেয়ে অপরাধীরা পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলে। তবে তারা পিছু না হটে নতুন কৌশল হিসেবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিমন্ত্রী উদ্যোগী হয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় যশোরের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে পেজটির পরিচালক ও নেপথ্যের কারিগরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
যশোরের সাংবাদিক সমাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই নোংরা অপপ্রচারের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বর্তমানে পুলিশ ও সাইবার অপরাধ বিভাগ পেজটির উৎস সন্ধানে কাজ করছে।