যশোরের মণিরামপুরে চেক জালিয়াতি মামলায় চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নাকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। গত ৪ মে যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শান্তনু কুমার মন্ডল এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাঝিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন মুন্না মণিরামপুর পৌর এলাকার হাকোবা গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করে তিনি পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, মণিরামপুর শাখার একটি চেক প্রদান করেন। তবে সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ২০২৩ সালের ৫ মে চেকটি ডিজঅনার হয়।
এরপর ভুক্তভোগী নাজমা বেগম আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তাতেও প্রতিকার না পেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, মণিরামপুরে মামলা দায়ের করেন (সেশন নং- ৮২৭/২৪)। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন ও শুনানি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত জামাল উদ্দিন মুন্নাকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
তবে রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন মুন্না দাবি করেছেন, “রায়ের দিনই বাদীর সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে, বর্তমানে কোনো জটিলতা নেই।” যদিও আদালতের রায় বহাল থাকায় আইনগতভাবে দণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এদিকে স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক চেক জালিয়াতির অভিযোগ ও দণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালে পৃথক আরেকটি চেক জালিয়াতি মামলায় জামাল উদ্দিন মুন্নাকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় এমন রায় ঘোষণায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।