বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই নোবিপ্রবিতে, ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই নোবিপ্রবিতে, ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা

সালমান হোসেন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সংশ্লিষ্ট কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি স্বীকৃত হলেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও এ সুবিধা অনুপস্থিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও একাডেমিক চাপ সামলাতে পারছেন না। ফলে অনুপস্থিতি বেড়ে যাচ্ছে, পরীক্ষায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং অনেকে সেশনজটে পড়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টার’ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনটি প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা তৈরি করে মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বরাবর জমা দিয়েছে।

প্রস্তাবনায় সন্তান জন্মের আগে সাত সপ্তাহ এবং জন্মের পর দশ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ছুটিকালীন সেমিস্টার, ক্লাস টেস্ট বা অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ছুটির পর সম্পন্ন করার সুযোগ, সেমিস্টারের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ (ব্যাকলগ হিসেবে না গণ্য করা), গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পর থেকে ক্লাস-ল্যাব-পরীক্ষায় বাধ্য না করা, বিকল্প হিসেবে অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা এবং উপস্থিতি না থাকলেও ৭০ শতাংশ উপস্থিতি বিবেচনার দাবি রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপন এবং জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী শিক্ষার্থী ও নবজাতকের মায়েদের জন্য দুই রুমবিশিষ্ট শ্যাডো সেন্টার (ভাড়াভিত্তিক) চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।

ডিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী রেবেকা সুলতানা বলেন, “মাতৃত্বকালীন সময় মা ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ছুটির ব্যবস্থা জরুরি।”

আরেক শিক্ষার্থী মারুফা জানান, গর্ভাবস্থার কারণে অনেক ছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মাতৃত্বকালীন ছুটি থাকলে তারা সাময়িক বিরতি নিয়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাতৃত্বকালীন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নোবিপ্রবিতে এখনো এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবনা আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি স্থায়ী সমাধান হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সরাসরি বিধান না থাকলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা বিবেচনা করব।”

এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে নোবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন