চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সদরে দীর্ঘ দিন ধরে পাবলিক টয়লেটের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আনাগোনার এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেই কোনো কার্যকর শৌচাগার ব্যবস্থা। উপজেলা সদরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অসংখ্য মার্কেট থাকলেও মৌলিক এই সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে বছরের পর বছর।
সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সদর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও টয়লেট সুবিধা না থাকায় পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে নারী অভিভাবকরা পড়েছেন সবচাইতে বেশি বিড়ম্বনায়।
পশ্চিম কধুরখীল থেকে আসা অভিভাবক তাসলিমা বলেন, “আমরা নারী মানুষ, এত বড় উপজেলা সদরে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। পুরুষরা যেভাবে হোক ব্যবস্থা করতে পারলেও আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।”
বোয়ালখালী সদর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, “অভিভাবকরা আমাদের কাছে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।”
পশ্চিম গোমদণ্ডী থেকে আসা মো. রফিক বলেন, “নাতিকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি। কয়েক ঘণ্টা এখানে থাকতে হয়, কিন্তু প্রয়োজনে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর চৌধুরী রানা জানান, আগে উপজেলা সদরে একটি পাবলিক টয়লেট ছিল। তবে নতুন হলরুম নির্মাণের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর আর কোনো নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগী ও তাদের স্বজনদেরও পোহাতে হচ্ছে একই দুর্ভোগ। শ্রীপুর খরণদ্বীপ এলাকা থেকে আসা কুনসুমা বলেন, “হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর টয়লেট প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আশেপাশে কোথাও খুঁজে পাইনি।”
মার্কেট এলাকার কর্মচারী রহিম জানান, বাজারের মসজিদের টয়লেটগুলো নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময় বন্ধ থাকে। ফলে সেই সময়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভীষণ সমস্যা হয়।
পোপাদিয়ার বাসিন্দা এস এম মোদ্দাচ্ছের আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ ভাবে না। জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করলেও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুখ বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। জনসাধারণের সুবিধার্থে দ্রুত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”