পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। সমস্ত বুথফেরত সমীক্ষাকে ছাপিয়ে এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে নবান্ন দখলের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে গেরুয়া শিবির। এই জয়কে ‘জনগণের বিজয়’ এবং ‘সুশাসনের রাজনীতির জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নির্বাচনী ফলাফলে জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন:“পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। জনগণের জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই। জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন যে, বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য বদ্ধপরিকর। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে নতুন সরকারের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই জয়কে উৎসর্গ করেছেন দলের লড়াই করা কর্মীদের প্রতি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, বাংলার মানুষ এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তার মতে, এই সাফল্য দলীয় কর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ফল।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ছিল। ঘাসফুল শিবিরের স্লোগান ছিল বিপুল ব্যবধানে জয়ের। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বাংলার সিংহভাগ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
একনজরে নির্বাচনের মূল পয়েন্টগুলো:
পরিবর্তনের হাওয়া: ১৫ বছরের মমতা শাসনের অবসান।
দুই দফার ভোট: ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণে নিহিত ছিল জনগণের স্তব্ধ রায়।
বিজেপির উত্থান: বিরোধী দল থেকে সরাসরি শাসকদলের মসনদে।
তৃণমূলের হার:গত তিনবারের সাফল্যের পর এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের ফলে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।