দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে কাজ শেষ হলেও হাতিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছরেও শেষ হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশে এসে থমকে আছে, যা নিয়ে স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চারতলা ভিত্তিযুক্ত নান্দনিক এই মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্ব পায় KE-OG-DESH (JV) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে ১৫ মাস মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৪ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৩৬২ টাকা ৭৭ পয়সা।
পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে দুই দফায় মোট ৩৬৫ দিন সময় বাড়ানো হয়, যার সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভেরিয়েশন হিসেবে অতিরিক্ত ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৩২ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫ টাকা। তবে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও কাজ এখনো অসমাপ্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬২ মাস অতিক্রান্ত হলেও কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণে গণপূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যে চার দফায় নোটিশ প্রদান করেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল আরেকটি চিঠি দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর বর্তমানে গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের স্থান সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় মুসল্লী মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, “নির্মাণ কাজে এত বিলম্ব আমাদের ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে।” অপর মুসল্লী নাজিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন দায়িত্বহীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।”
মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জিয়াউল হক জানান, “কাজ খুব ধীরগতিতে চলছে। অস্থায়ী মসজিদে মুসল্লীদের জায়গা হচ্ছে না। বারবার বলার পরও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV)-এর লিড পার্টনার ওসমান গনি দাবি করেন, “ডিপার্টমেন্ট দেরিতে ডিজাইন দিয়েছে। এছাড়া বাউন্ডারি ও গেইট নির্মাণের জন্য নতুন বরাদ্দ প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলে একসঙ্গে কাজ শেষ করা হবে।”
এ বিষয়ে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, “সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।