রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের মাচালং ১০ নং পাড়া হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান রনজিৎ চাকমা বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প তৈরি করে পরিবারে সংসারে হাল ধরেছেন।
পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই সাজেক ভ্যালি এখন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, স্থানীয়দের জীবন-সংগ্রামের গল্পের জন্যও পরিচিত হয়ে উঠছে।
রনজিৎ চাকমা দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরি করছেন। তার তৈরি ঝুড়ি, ফুলদানি, ল্যাম্পশেড, চাবির রিংসহ নানান সামগ্রী পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
প্রতিদিন সকাল থেকেই তিনি সাজেকের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নিজের তৈরি পণ্য নিয়ে বসেন। পর্যটকরা তার পণ্যের নান্দনিকতা ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ হয়ে কিনে নেন।
রনজিৎ জানান, আগে তিনি পাহাড়ে জুম চাষে জীবিকা নির্বাহ কাজ করতেন, যা দিয়ে সংসার চালানো ছিল খুবই কঠিন।
পরে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প কাজ শুরু করেন। শুরুতে বিক্রি কম হলেও ধীরে ধীরে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এখন এই হস্তশিল্পই তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
তিনি আরও বলেন, “বাঁশ আমাদের এলাকার সহজলভ্য সম্পদ। এটা দিয়ে কাজ শিখে আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। এখন চাই, আমার মতো আরও অনেকে এই কাজে এগিয়ে আসুক।
সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলছেন, রনজিৎ চাকমার মতো উদ্যোগী মানুষদের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসার ঘটছে। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমছে, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।
রনজিৎ চাকমার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, এসব পণ্য কিনলে শুধু একটি জিনিস কেনা হয় না, বরং একজন মানুষের জীবিকার সহায়তা করা হয়।
সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই ধরনের ক্ষুদ্র হস্তশিল্প আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন পরিচয় চাকমা।