রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ থেকে রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কঠোর মনিটরিং এবং আহরণ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ফলে চলতি মৌসুমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, গত নয় মাসে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে রাজস্ব ছিল ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আহরণ হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ।
মৎস্য সম্পদের প্রজনন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে তিন মাসের মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তবে রাজস্ব বৃদ্ধির এই সাফল্যের মাঝেও হ্রদনির্ভর প্রায় ২৭ হাজার জেলে পরিবার পড়েছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় বছরের তিন থেকে চার মাস তারা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন, ফলে আর্থিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। এই সময়টাতে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
এদিকে, রাঙামাটি জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের খাদ্য সহায়তা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আরও বাড়তে পারে।
রাঙামাটি অঞ্চল বিএফডিসি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, সঠিক তদারকি ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নতির কারণেই এ সাফল্য এসেছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের জন্য দুই মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা ৪০ কেজিতে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।