পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রায় প্রস্তুত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। এবারের ঈদ জামাতকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করছে প্রশাসন। কারণ দীর্ঘ সময় পর একই জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সকালে ঈদগাহের সর্বশেষ প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, ডিএমপি কমিশনার এবং সিটি করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে জানানো হয়, বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখেই নেয়া হয়েছে সব ধরণের ব্যবস্থা।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সিয়াম সাধনার পর উৎসবের আমেজে দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও সেজেছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। তবে ২০২৬ সালের এই জামাত পাচ্ছে ভিন্ন মাত্রা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, ঈদগাহে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোদ কিংবা অতি বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পুরো ময়দান প্যান্ডেলে ঢাকা হয়েছে। যদি আবহাওয়া প্রতিকূল থাকে, তবে বিকল্প হিসেবে বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো এলাকা। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের ক্ষেত্রে থাকবে কয়েক স্তরের তল্লাশি। মেটাল ডিটেক্টর এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষা ভবন পয়েন্টে থাকবে বিশেষ রোড ব্যারিকেড।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঈদের দিন ৮ থেকে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। যদি ২৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ঈদগাহের জামাত পরিবর্তিত হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।
ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে প্রধান জামাত। ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক প্রবেশ পথ। এছাড়া জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকবে মেডিকেল টিম।