ক্যাম্পাসব্যাপী সহিংসতা সৃষ্টিকারী নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি সংগঠন মিলে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরণের অনৈতিকমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রশাসন এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের কল্যাণের পরিবর্তে তাদের ক্ষতিসাধন করে আসছে।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশশির আমিন বলেন, শেখ হাসিনা পলায়নের পর আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। যারা সেসময় নির্বাচন চেয়েছিল তারাই এখন দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা এসএসসিতে নকল ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে মুছে ফেলার জন্যেও কাজ করতেছেন।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস, সাংবাদিকদের গায়ে হাত ও ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতাই কি আপনাদের প্ল্যান ছিল?
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাসিনা সরকার ৩৬ দিনে পালিয়ে ছিল, আপনারা ৩৬ ঘণ্টাও সময় পাবেন না। কেউ নব্য স্বৈরাচার হতে চাইলে আপনারা কোনোরকম সুযোগ দিব না।
মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী বলেন, ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে আমরা ছাত্র-জনতাকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।
তিনি আরও বলেন, যারা এর আগে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছিল তারা দেশে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি মিথ্যা হলে ৩/৪ জনকে গ্রেফতার করার কারণ কি? পূর্বের সরকার নিয়মতান্ত্রিক কোনো কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে গুজব বলে চালাতো।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকার দাবি করে স্বেচ্ছাচারিতা করতে চাচ্ছেন। ভিসিদের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিবর্তন করে তাদের অযোগ্য প্রমাণ করা হয়েছে।
ইবি ক্যাম্পাসে ঘণ্টাপ্রতি বাস সার্ভিস বন্ধের ষড়যন্ত্র বন্ধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন নেতাকর্মীরা।