রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ভালুকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, দোকানঘর দখল ও হুমকির অভিযোগ

ভালুকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, দোকানঘর দখল ও হুমকির অভিযোগ

মো. ইসহাক

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দোকানঘর দখল, বালু ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে চাচাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ সজিব মিয়া প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মামারিশপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সজিব মিয়া দাবি করেন, তার পিতা মৃত আলী হোসেন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ধামশুর মৌজার বি.আর.এস সাবেক দাগ নং ৩৪৭ এবং বর্তমান দাগ নং ৪৪৯৩-এর মোট ৫.২৩ শতাংশ জমির ওপর একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। তিনি ও তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি একাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার চাচারা ইব্রাহীম, আব্বাস, আসাদ ও আক্তার হোসেন উক্ত জমিতে সমান অংশীদার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাতে তারা দোকানের সামনে এক ট্রাক বালু ফেলে এবং দোকানের পেছনে তালা লাগিয়ে দেয়। পরদিন প্রতিবাদ জানালে দোকান ছেড়ে না দিলে ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিবাদীরা কোনো রায় মানেনি বলে জানান ভুক্তভোগী। এর আগেও একইভাবে দোকানে তালা লাগানো হয়েছিল, যা তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে সমাধান করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী তার ফুপু আকিমন্নেসার কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে ২.০৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সেই জমিতেও চাচারা বাধা সৃষ্টি করছেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বিবাদীদের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দ্রুত জমি ও দোকানঘর বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এখনো দখল বুঝিয়ে দেয়নি।

সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আসমত আলীর সভাপতিত্বে আরেকটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে বিবাদীরা কোনো অবস্থাতেই জমি ছাড়বে না বলে জানায়।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় তার ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং দোকানে থাকা মালামাল নষ্ট হয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী ইব্রাহীম শেখের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সজিব মিয়ার পিতা আলী হোসেন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি বিক্রি করে গেছেন, তাই এখানে তাদের কোনো জমি নেই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইকবাল হোসাইন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানি গ্রহণ করা হয়েছে। বিবাদী পক্ষকে বিধি মোতাবেক জমি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এরপরও সমাধান না হলে বাদী পক্ষ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ মোতাবেক মোকদ্দমা রুক্ষ করতে পারেন।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন